আমার দেখা বরিশালের কিছু পরিচিত পাখি

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে!!

রূপসী বাংলার কবি জীবানানন্দের খুব সখ ছিলো ধানসিড়ি নদী তীরে পাখি হয়ে ফিরে আসবার। তিনি বারিশালের পাখির রূপে এতই মুগ্ধ ছিলেন যে এক জনমে তার স্বাদ মিটেনি পাখি দেখার। তাই পরজনমে তিনি পাখি হবার বাসনা নিয়ে চলেগেছেন পরপারে। কি এমন রূপে মজে ছিলেন তিনি তা জানতে আসুন আমরা আজ বরিশালের কিছু পাখির সাথে পরিচিত হই। তবে এই পাখিগুলো যে কেবল বরিশালেই দেখা যায় তা নয়। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাতেও রয়েছে এদের অবাধ বিচরণ।

শঙ্খচিলঃ

কবির পাখি হবার বাসনার প্রথম স্থান দেওয়া পাখি শঙ্খ চিল বাংলাদেশে একটি অতি পরিচিত পাখি। শঙ্খের মত সাদা এদের মাথা, ঘাড়, বুক, পেটের তলা’র পালক যার উপর মরিচা ধরা খাড়া ছোট রেখা থাকে তাই বুঝি এদের নাম হয়েছে শঙ্খচিল! বরিশালের নদী-নালা, জলাশয়ের আশেপাশে এদের দেখা যায় বেশি। তবে অন্যান্য্ জেলাতেও শঙ্খ চিল দেখা যায়। গ্রামে এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে; বড়ো বড়ো জলাশয়ের পাশে এবং সুন্দরবনে বড়ো বড়ো ঝাঁকে বাস করে। সুযোগ পেলে জেলে নৌকা বা ট্রলার অনুসরণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত উপমহাদেশে সর্বত্র, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় পাখিটি সুপরিচিত। কবি জীবনানন্দ দাশের ”আবার আসিব ফিরে” কবিতাটিতে শঙ্খ চিলের উল্লেখ এই চিলকে অমর করে রেখেছে।

গাংচিলঃ

নদীর উপর উড়ে বেড়ায় বলেই হয়তাে এদের নাম গাঙ্গচিল (Seagull) । গাঙচিলআকৃতিতে মাঝারি থেকে বড় হয়ে থাকে। এরা অনায়াসে আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে। গাঙ্গচিলের হাঁসের মতো পায়ের জোড়া পাতা। এই কারণে জলে সহজেই সাঁতার কাটতে পারে। এদের প্রধান খাদ্য মাছ, পোকামাকড়, ডিম, বিভিন্ন লতা। উপকূলের আবর্জনা ঘেঁটে ছোট ছোট পোকামাকড় খায়। এদের বহু প্রজাতি রয়েছে। তাদের অধিকাংশই পরিযায়ী পাখি।

শালিকঃ

রুপসী বাংলার কবির পাখি হবার বাসনার দ্বিতীয় স্থান কেড়ে নিয়েছে শালিখ। শালিক বা শালিখ ছোট ও মাঝারি আকারের বৃক্ষচর পাখি। শালিক বেশ কয়েক ধরনের হয়। সাদা-কালো শালিককে ডাকা হয় গো-শালিক বা গোবরে-শালিক নামে। এদের ঠোঁটের রং গাঢ় কমলা-হলুদ এবং চোখের মণি হালকা হলুদ রঙের। অন্যদিকে ঝুঁটি-শালিকও সাদা-কালো রঙের হয় কিন্তু এর মাথায় একটি ঝুঁটি রয়েছে। গাঢ় বাদামি শালিককে বলা হয় ভাত শালিক। এদের ঠোঁট ও পা উজ্জ্বল হলুদ রঙের। বড় আকৃতির এশীয় শালিক প্রজাতি ময়না নামে পরিচিত। এরা খুব সহজেই আশেপাশের আওয়াজ আর মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে। এরা মানুষের গলার স্বর শুনে নির্দিষ্ট কাউকে চিনতে সক্ষম এবং বর্তমানে এরা মানব ভাষা বিষয়ক গবেষণার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। গায়ক পাখি হিসেবেও শালিকের সুনাম রয়েছে, তবে কাঠ-শালিক সবচাইতে ভালো গাইতে পারে। প্রায় সব প্রজাতির শালিকই বিভিন্ন স্বরে ডাকতে পারে এবং অন্য শালিকের কণ্ঠ নকল করতে পারে।

কাকঃ

যাদের কর্কশ কণ্ঠের কাকা শব্দে আপনার ভোরবেলার সুখ নিদ্রায় যবনিকা টানতে হয় তার না্মই কাক। কাক (Crow) কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় কালো পাখি। অধিকাংশ কাকের দেহবর্ণ কালো রঙের। তবে বিরল প্রজাতির সাদা কাকও দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে ৪০টিরও বেশি প্রজাতির কাক দেখা যায়। তবে আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত দাঁড়কাক ও পাতিকাক এই দুই প্রকারের কাক বেশি দেখা যায়। বেশির ভাগ প্রজাতির কাকের আয়ুষ্কাল ১০-১৫ বছর।

কোকিলঃ

কোকিল নিয়ে বাংলা সাহিত্যে কোকিলকণ্ঠী, বসন্তের কোকিল প্রভৃতি বাগধারা প্রচলিত আছে। এ পাখির ডাক মনে করিয়ে দেয় বসন্ত দোলা। কোকিল বাংলার একটি সুপরিচিত পাখি। এরা চমৎকার গান গেয়ে বসন্তকালকে মুখরিত করে তোলে। বংশবিস্তারের জন্য এরা অন্য কোনো পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। এ জন্যই ‘কাকের বাসায় কোকিলের ডিম’ কথাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। কোকিল কখনোই ডিমে তা দিয়ে ছানা ফোটায় না। মাতৃস্নেহবঞ্চিতই থেকে যায় কোকিলছানাদের শৈশব। প্রকৃতিগত কারণেই এরা পুরোপুরিভাবে ধাত্রী পাখিদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে কাক, বুলবুলি, বাঘাটিকি, বনছাতারে এমনকি বসন্ত বাউরির বাসাকে এরা আগে থেকেই ডিম পাড়ার উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করে রাখে এবং অতি কৌশলে সেখানে গিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ডিম পাড়ে। কোকিল কখনো বাসা বাঁধে না বলে প্রজননকালে এরা পরনির্ভরশীল পাখি। সাধারণত গাছের মগডালে পাতার আড়ালে বসে মধুর সুরে ডাকে এই মিষ্টি পাখিটি। ফলে তাকে খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। পাখি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কোকিল দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকাজুড়ে এদের আবাস, তবে বাংলাদেশে যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ বাসস্থান সংকট।

বক পাখিঃ

লম্বা পা বিশিষ্ট মিঠাপানির জলাশয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মৎস্যভোজী একদল জলচর পাখিকে বক বলা হয়। এদের পালক সাধারণত সাদা। এক সময়ে প্রাচ্যের রাজকীয় পোশাকে এবং মহিলাদের টুপিতে এর পালক ব্যবহূত হতো। সারা বিশ্বে বিভিন্ন প্রজাতির বকের বিস্তৃতি থাকলেও নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে এদের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীতে স্বীকৃত মোট ৬৪ প্রজাতির বক রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ বকদের মধ্যে আছে কানা বা কানিব, গো-বক, ছোট সাদাবক, মাঝারি সাদাবক. বড় বা জাতুয়া বক. ধূসর বক, বেগুনি বক, বৃহৎ বা মহাকায় বক, ওয়াক বা নিশিবক, বাঘাবক। নিশিবক বা বাঘাবক ছাড়া অন্য সব বকই দিবাচর এবং এ দুটি প্রজাতি নিশাচর বা গোধূলিচর। বাংলাদেশে সর্বত্র ও সহজ দৃষ্ট হলো কানিবক, ছোট সাদাবক ও গো-বক।

বালিহাঁসঃ

বালিহাঁস এক প্রজাতির অতি পরিচিত ছোট আকারের হাঁস। পাখিটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। আমাদের দেশে দুইটি প্রজাতির বালিহাঁস দেখতে পাওয়া যায়। এর একটি ধলা বালিহাঁস অ্ন্যটি সবুজ বালিহাঁস। ধলা বালিহাঁস বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। সবুজ বালিহাঁস অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পূর্ব তিমুর ও পাপুয়া নিউগিনির স্থানীয় পাখি। মানুষ ছাড়াও বাজপাখি, ইঁদুর, বনবিড়াল, চিল এদের প্রধান শত্রু। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

পানকৌড়িঃ

পানকৌড়ি জলের পাখি। অন্য নাম জলের কাক। গায়ের রংয়ের জন্য এ নাম। গ্রামাঞ্চলে তাকে পানিউড়ি নামেও ডাকে। পুরো ভারতবর্ষে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারে পানকৌড়ি দেখা যায়। পানকৌড়ি জলে নেমে মাছেদের রাজ্যে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে শিকার ধরে, ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকে না। তার শিকার ধরার মধ্যে শিল্পকলার চেয়ে দৈহিক তৎপরতাই বেশি। বাংলাদেশে পানকৌড়ি অতি পরিচিত পাখি, বিশেষ করে বিল অঞ্চলে। লম্বা হয় ৫১ সেন্টিমিটার। সারা গা, বুক কুচকুচে কালো, তাতে সামান্য চকচকে আভা। গলায় সাদা একটি দাগ, পাখার নিচের পালক ধূসর রংয়ের। লেজের গড়ন নৌকার বৈঠার মতো। ঠোঁট সরু, কিছুটা গোল ধরনের, ঠোঁটের আগা বড়শির মতো বাঁকানো। পা দুটি খাটো এবং মজবুত। হাঁসের পায়ের মতো ওর পায়ের পাতা জোড়া লাগানো। জলের মধ্যে চলার সময় দাঁড়ের মতো পা দিয়ে পানি ঠেলে এগিয়ে যায়। পানকৌড়ির প্রধান খাদ্য ছোট মাছ, তবে কাঁকড়া, ব্যাঙাচি, ব্যাঙ ইত্যাদিও খায়। পানিতে সাঁতার কাটার সময় কোনো বিপদের সম্ভাবনা দেখা দিলে শুধু মাথা এবং গলাটুকু পানির উপর জাগিয়ে রেখে ডুবে থাকতে পারে।

ডাহুকঃ

জলের পাখি ডাহুক। বর্ষার সময় একটু জলা-জংলা জায়গার আশে-পাশে ডাহুকের গম্ভীর কোয়ক কোয়াক ডাক শুনতে পাওয়া যায়। আমাদের গ্রাম বাংলার মানুষেরা এলাকাভেদে ডাহুককে কেউ ডাইক, কেউবা পানপায়রা আবার কেউ ধলাবুক ডাহুক বলেও ডাকে। কারণ, ডাহুকের শরীরটা কালচে হলেও এর বুক, গলা, পেট একদম ধবধবে সাদা। তার সঙ্গে মিল রাখতে ঠোটটা হলুদ রঙের, ঠোটের উপরে লাল রঙের একটি ছোট্ট দাগও আছে। সব মিলিয়ে ডাহুক খুব সুন্দর একটি পাখি। জল এদের প্রধান আশ্রয়। পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল ও নদীর গোপন লুকানো জায়গা এদের খুব প্রিয়। এদের পায়ের নখ খুব বড় আর ধারালো। এ কারণেই ডাহুক খুব সহজেই শাপলা বা পদ্ম পাতায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এমনকি কচুরিপানার উপর দিয়ে হেঁটেও যেতে পারে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন পানির উপর দিয়েই হাঁটছে। পানিতে বাস করা অন্য পাখিদের থেকে ডাহুকের সাহসও অনেক বেশি হয়। তাই মানুষের আশে-পাশে অনায়াসে বাস করে ওরা। তবে এই সাহসের মাশুলও ডাহুককে দিতে হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে আগে প্রায় ৮৩ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস ছিল। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার বা আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। যদিও বাংলাদেশের বন্য আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও পাখি শিকারিরা নির্বিচারে এ পাখিকে হত্যা করেই যাচ্ছে। এছাড়াও আমাদের জলাশয়গুলো দূষিত হয়ে যাওয়ার কারণে ডাহুকের বাসভূমিগুলো দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

টিয়াঃ

কোন পাখি দেখতে সুন্দর! এমন প্রশ্নে প্রথম চলে আসে টিয়ার নাম। বাংলাদেশে ৭ প্রজাতির টিয়া পাখি দেখতে পাওয়া যায়। সবগুলোই আমাদের দেশীয় বা আবাসিক পাখি। অঞ্চল ভেদে এই পাখিগুলোর বিচরণ। বাসন্তী লটকন টিয়া, ফুলমাথা টিয়া ও মদনা টিয়া সবুজ বনে পাওয়া যায়। এরা লোকালয়ে আসে না। আর বাকিগুলো লোকালয়ে থাকে। এরা আবার গ্রীন ফরেস্টে তেমন যায় না। এই সাত প্রজাতির টিয়াই ফলভোজী। তবে চন্দনা টিয়া ফুল বেশি পছন্দ করে। সূর্যমুখী ফুল ও বীজ চন্দনা টিয়ার পছন্দের খাবার। এ ছাড়াও পলাশ ফুলের মধু ও পাঁপড়ি চন্দনার খাবারের অংশ। রঙ্গিন ফল চন্দনার বেশ প্রিয় খাবার। একটি মজার ব্যাপার হলো, এরা মানুষের মতো খাবার বেলায় ডান বা বাম হাতি। বাংলায় এই পাখিকে হিরামন বা পাহাড়ি তোতা বা চন্দনা টিয়া বলা হয়।

বউ কথাকও পাখিঃ

‘বউ কথা কও’ গ্রীষ্মের প্রজনন পরিযায়ী পাখি। ‘বুকো-টাকো-বুকো-টাকো…’ স্বরে ডাকে, যা কতকটা বউ কথা কও শোনায়। হাজার বছর ধরে বাংলার নিজস্ব এই পাখি ওদের ভাষায় সুরের নামেই পরিচিতি পেয়েছে- বউ কথা কও। তবে এই নামের সঙ্গে অঞ্চলভেদে আরও চারটি নাম যোগ হয়েছে হলুদ সোনা বউ, কুটুম পাখি বেনে বউ ও কুটুম বউ। বসন্ত বউরি নিয়ে পৌরাণিক এক উপাখ্যান আছে। শাশুড়ি রেগে পুত্রবধূকে পাখি বানিয়ে দেয়। উড়ে গাছে উঠে পুত্রবধূ। স্বামী এসে বউয়ের খোঁজ করলে শাশুড়ি বৃক্ষের শাখায় পাখি দেখিয়ে দেয়। স্বামী ডাক দেয়। ততক্ষণে বউ তো পাখি হয়ে গেছে। মানুষের কথা কি করে তারা বোঝে! স্বামী দেবতার কাছে পাখি হওয়ার বর চায়। দেবতাও তথাস্তু বলে দেয়। সেই থেকে উড়ে উড়ে ডাকতে থাকে ‘বউ কথা কও’। পৌরাণিক উপাখ্যানে যাই থাক তা কল্পনার মিশেলে মোড়কে বাঁধা। বাস্তব প্রকৃতিতে হলদে রঙের মিষ্টি এই পাখি বাংলা পাখি পরিচয়ে চিরন্তন হয়ে আছে, থাকবে বহুকাল।এ পাখির ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান কাক্কু। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ, দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, কোরিয়া, জাপান, ফিলিপাইন ও রাশিয়ায় দেখা যায়। বউ কথা কও একাকী বা জোড়ায় বিচরণ করে। শুঁয়াপোকা, ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল, উড়ন্ত উইপোকা, ফল, গিরগিটি খায়।

কাদাখোঁচাঃ

মোট ২৫ প্রজাতির পানিকাটা পাখি একত্রে কাদাখোঁচা বা চ্যাগা নামে পরিচিত। এদের সবার খুব লম্বা ঠোঁট থাকে। এদের ঠোঁটের গঠন এমন যাতে খুব সহজে কাদা থেকে পোকামাকড় ও কেঁচো খুঁচিয়ে বের করা যায়। এছাড়া দেহ কালো, মেটে, সাদা ও বাদামি বর্ণে এমনভাবে চিত্রিত যাতে এরা পরিবেশের সাথে মিশে থাকতে পারে। অধিকাংশ কাদাখোঁচা স্বভাবে পরিযায়ী। সুস্বাদু মাংসের লোভে মানুষ এদের নির্বিচারে হত্যা করছে।

ঘুঘুঃ

একসময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের মাঠের ধান ঘরে উঠছে এই আনন্দে ঘুঘুর ডাকে মুখরিত হয়ে উঠত পরিবেশ। গ্রামাঞ্চলের বনগুলোতে প্রায় সর্বত্রই লাল, সবুজ, নীল ও খয়েরি বর্নের ঘুঘুর বিচরণ ছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ঝোপ-জঙ্গল, খোলা মাঠ, গ্রাম বা আশপাশে বড় বড় গাছ আছে এমন কৃষি জমিতে এদের দেখা মিলত। বর্তমানে আগের মতো চিরপরিচিত এ পাখিটি তেমন দেখা যায় না। দুই একটা গ্রামে দেখা গেলেও তার সংখ্যা খুবই কম। ঘুঘু অত্যন্ত ভিতু ও লাজুক প্রকৃতির পাখি। সাধারণত বছরে এক জোড়া ডিম পাড়ে। সেই ডিমে তা দিয়ে নিজেই বাচ্চার জন্ম দেয়। বিস্তীর্ণ জমির গাছের ডালে, আড়ালে আবডালে এরা বাসা করে ডিম থেকে বাচ্চা দিত। এখন এই পাখিটি বিলুপ্তপ্রায়। বাসা থাকলেও পাখি নেই। একসময় প্রচুর সংখ্যায় দেখা গেলেও শিকারিদের কবলে পড়ে ও ঝোপ-জঙ্গল কমে যাওয়ায় বর্তমানে এদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে এই সুন্দর পাখিটি।

কবুতরঃ

কবুতর বা পায়রা বা কপোত বা পারাবত এক প্রকারের জনপ্রিয় গৃহপালিত পাখি। এর মাংস মনুষ্যখাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন কালে কবুতরের মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা হত। কবুতর ওড়ানোর প্রতিযোগিতা প্রাচীন কাল থেকে অদ্যাবধি প্রচলিত আছে। পৃথিবীতে প্রায় ২০০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় ৩০ প্রকার কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের সর্বত্র এসকল কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশে কবুতরের জাতের মধ্যে গিরিবাজ জনপ্রিয়। কবুতর প্রতিপালন এখন শুধু শখ ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা এখন একটি লাভজনক ব্যবসা হিসাবে পরিগণিত হয়েছে।

চড়াইঃ

আগেকার দিনের মুদি দোকান বা গুদামঘর থেকে ছড়িয়ে পড়া শস্য চড়াইদের খাবারের প্রধান উত্‌স ছিল। বাড়িতেও ধান, গম, অন্যান্য শস্য বাছাই হত। কিন্তু বর্তমানে শপিং মল থেকে প্যাকেটবন্দি খাবার সোজা রান্নাঘরে পৌঁছচ্ছে। নেই কুলোর বালাই। নেই ছড়িয়ে থাকা শস্য। এতে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়লেও চড়াইদের মুখের গ্রাস কমে গিয়েছে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, তড়িত্‌-চৌম্বকিয় তরঙ্গের প্রভাবও চড়াইয়ের সংসারে বিপদঘণ্টি বাজাচ্ছে। আজকাল চড়াই পাখির দেখা মেলা ভার। আগেকার দিনে দুপুরবেলায় বারান্দায় বা উঠোনে চড়াইপাখি এসে কিচিরমিচির করত। কিন্তু আজকাল চড়াইপাখি দেখা মিললেও তা সংখ্যায় খুব কম। ঘরে চড়াই পাখীদের আশ্রয় দিলে তা নেগেটিভ এনার্জিকে প্রতিহত করে। চড়াই পাখির প্রাণচাঞ্চল্যভাব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করে। চড়াইকে আশ্রয়দান করলে হৃত সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হয়। হারানো প্রেম জোড়া লাগে। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দূর হয়। বাস্তুমতে, বাড়িতে চড়াইয়ের বাসা আত্মিক উন্নতিতে সহায়তা করে। চড়াইকে ঘরে আশ্রয় দিলে সমৃদ্ধি সূচিত হয়। গৃহে চড়াই পাখির অবস্থান সার্বিক স্বাস্থ্য ও পারিবারের সকলের মানসিক শান্তিও সূচিত করে। বর্তমানে দ্রুত নগরায়ন ও বাড়ির চরিত্র বদলের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই চড়াই বসতির উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রধানত যে কারণগুলিকে চিহ্নিত করেছেন সেগুলি হল: আজকাল তৈরি হওয়া আবাসন বা বাক্স ধাঁচের বাড়িতে উদ্বৃত্ত জায়গা আর ঘুলঘুলি থাকেই না। ফলে চড়াইয়ের বাসা বাঁধার সবচেয়ে পছন্দের জায়গাটিই হারিয়ে গিয়েছে। বাড়ি-কারখানা গড়ার তাগিদে গাছও নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। বাড়ছে কীটনাশকের ব্যবহার। ফলে ফসলে মুখ দিলেই মৃত্যু।

দোয়েলঃ

দোয়েল (Magpie-robin) বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। সাদা-কালোয় সজ্জিত বুলবুল আকৃতির খাটো লেজবিশিষ্ট এ পাখি বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় দোয়েল দেখতে পাওয়া যায়। স্ত্রী দোয়েলের দেহের কালো অংশগুলি বাদামি এবং ময়লা বালির মতো দেখায়। গাছের প্রাকৃতিক খোঁড়লে কিংবা ঝোপঝাড়ে এরা বাসা বাঁধে। সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় ঝোপঝাড়যুক্ত বন, বাগান, গ্রাম তথা লোকালয়ে এদের দেখতে পাওয়া যায়। মিষ্টি মোলায়েম শিস দেয়। লেজের ডগা নাচায়। স্থিরভাবে বসা অবস্থায় দোয়েলের লেজ মোরগের লেজের মতো দেখায়। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ দোয়েল খুব ভোরে এবং পড়ন্ত দুপুরে সুরেলা গলায় অত্যন্ত জোরে গান গায়। অন্য পাখির ডাকও এরা নকল করতে পারে। দোয়েল প্রধানত পোকা-মাকড়, কীটপতঙ্গ খায়। দোয়েল ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এক সময়ে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে, গাছে গাছে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখা যেত। কিন্তু কালের আবর্তে এখন আর চিরচেনা সেই দোয়েল পাখি আর দেখা যায় না। পাখির কলরব বনে জঙ্গলে গাছে পাখি দেখার সেই অপরূপ দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। এখন আর চোখে পড়ে না। বনাঞ্চলের পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জমিতে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার, পাখির বিচরণ ক্ষেত্র ও খাদ্য সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি। বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। এসব গাছগুলো পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে থাকে। পাখির আবাসস্থল নির্বিচারে ধ্বংস ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক দেয়ার প্রভাবে এসব পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। বিশেষ করে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ আরো অনেক পাখি আর সচরাচর দেখা যায় না। শোনা যায় না এসব পাখির মধুর ডাক। উড়তে দেখা যায় না আর মুক্ত নীল আকাশে। বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা এসব পাখি হয়তো চোখেই দেখেনি, অনেকেই এসব পাখির নামও জানে না।

মাছরাঙ্গাঃ

মাছরাঙা অত্যন্ত উজ্জ্বল রঙের ছোট বা মাঝারি আকৃতির পাখি। নদীমাতৃক আমাদের দেশে অতি পরিচিত একটি প্রজাতির পাখি হচ্ছে মাছরাঙ্গা। আমাদের দেশে এই পর্যন্ত ১১ প্রজাতির মাছরাঙ্গা এর সন্ধান পাওয়া গেছে। এই পাখি গুলো প্রধানত নদী,পুকুর,বিল অথবা ডোবার আশে পাশে বেশি দেখা যায়। রঙ্গিন বর্ণের এই পাখি গুলোর মূল খাবার হচ্ছে মাছ। এদের মাছ ধরে খাওয়ার দৃশ্য অতি চমৎকার। এছাড়াও এরা ব্যাঙ, পোকা এবং বিভিন্ন ধরনের ছোট সরীসৃপ ও খেয়ে থাকে। অতি পরিচিত এই পাখিটি দিন দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। IUCN এর রিপোর্ট অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরের পানি দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় এবং দক্ষিণাঞ্চল দিন দিন প্লাবিত হওয়ায় এদের আবাসস্থল দিন দিন ধ্বংসের পথে, তা ছাড়া পানি দূষণ এবং নদী ভরাট এর ফলেও এরা দিন দিন তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। তাই এই রঙ্গিন প্রজাতির পাখি গুলোর এর প্রাকৃতিক নিবাস রক্ষায় আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

ফিংগেঃ

গায়ের রং কুচকুচে কালো হলেও পাখির রাজা ফিঙে। কালো এই পাখিটি কৃষকের পরম বন্ধু। ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখে ফিঙে। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে ফিঙে পাখির অবদান অতুলনীয়। পার্চিং পদ্ধতিতে ধানের জমিতে গাছের ডাল পুতে রাখলে, সেখানে ফিঙে পাখি বসে এবং ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। ফলে, কৃষককে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত রাখা যায়’। আমাদের চিরচেনা পাখিদের একটি ‘কালা ফিঙে’। ফিঙে পরিচিত পাখি। আমাদের প্রতিবেশী সে। দেখতে চমৎকার। খুব দ্রুত নিজেদের খাবার সংগ্রহ করতে পারে। এরা বিভিন্ন স্বরে ডাকে। এ দেশে ফিঙে পাখিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। ফিঙে চমৎকার শিস দেয়। শিস বেশ মিষ্টি। প্রতিনিয়তই সে ঘুরে বেড়ায় আমাদের বাসা-বাড়ির সামনে, বৈদ্যুতিক তারে, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে, ছোটখাটো ঝোপঝাড় থেকে শুরু করে বনপাহাড়ে।অনেক সাহসী পাখি ‘কালা ফিঙে’। কারণ হলো সে অনেক বড় পাখিকে তাড়া করে। ও যে এলাকায় থাকে ওর থেকে দশগুণ বড় এবং ওজনে বিশগুণ বড় পাখিকে সে সব সময় তাড়া করে সরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ও যদি বাসা করে তখন সব পাখিকেই সে তাড়া করে। শুধু তাড়া করলেই হয় না; তাড়া করে সে জিতেও যায়। পৃথিবীতে প্রায় ২৪ প্রজাতির ফিঙে আছে এর মধ্যে বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির ফিঙে পাখি পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই এই পাখির প্রাধান্য লক্ষনীয়। এদের প্রজনন সময় মার্চ থেকে জুন। গাছের ত্রিডালের ফাঁকে বাটি আকৃতির বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন।

বাবুই পাখিঃ

বাবুই পাখি বিরল প্রকৃতির। গাঁও-গ্রামে তাল গাছ, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ ও কড়ই গাছে তারা দল বেঁধে বাসা বাঁধে। বাবুই খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা “তাঁতি পাখি” (Weaver Bird) নামেও পরিচিত। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে। বাবুই দৃষ্টিনন্দন পাখি। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে। বাবুই পাখিকে শৈল্পিক ইঞ্জিনিয়ার বলা চলে। নিজের ঘর সাজাতে তাদের কোনো জুড়ি নেই। এরা বেশ দলবদ্ধ প্রাণী আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বেশিরভাগ বাবুই প্রজাতির পুরুষ সদস্য বেশ উজ্জ্বল রঙের হয়। কিছু প্রজাতি তাদের প্রজনন মৌসুমে বর্ণের ভিন্নতা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাবুই দেখা যায়। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। এক সময় গাঁও-গ্রামে বুননশিল্পী পাখি ও বাসার সন্ধানে পাখিপ্রেমীরা ছবি তুলতে, কিচির-মিচির শব্দ শোনার জন্য আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতেন। এখন আর তেমন একটা বাবুই পাখি চোখে পড়ে না। পড়ে না নয়নাভিরাম বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। গাঁও-গ্রামের আকাঁবাঁকা মেঠোপথে, পতিত উঁচু ভিটেমাটিতে, কখনও কখনও বাড়ির সীমানায় শোভাবর্ধন তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা শোভা পেত। তা দেখে মানুষ মুগ্ধ হতো। এখন সেই তালগাছও প্রায় বিপন্ন হতে চলছে। এই বাবুই পাখি পরিবেশ বিপর্যয় ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা দায়িত্ব সবার।

টুনটুনিঃ

শেষ করবো ছোট্ট দরজি পাখি টুন টুনির খবর দিয়ে। টুনটুনি পাখিদের দর্জি পাখি বলা হয়। তারা গাছের পাতা ঠোঙার মতো মুড়ে তার পাশে সুতা বা গাছের আঁশ দিয়ে সুন্দারভাবে সেলাই করে এবং সেই ঠোঙার মধ্যে পালক বা তুলা বিছিয়ে ডিম পাড়ে। দর্জির মতো পাতা সেলাই করে বলে তাদের দর্জি পাখি বলা হয়। টুনটুনিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন নীল টুনটুনি, বেগুন টুনটুনি, মৌটুসকি, মধুচুষকি, দুর্গা টুনটুনি, মধু চমকি, মৌটুসি। টুনটুনি নাচিয়ে পাখি। ছোট টুনটুনির বাহারি রং খুব সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। এরা ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় বাসা বাঁধে। ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ অথবা ঝোপঝাড় ওদের পছন্দ। শিম, লাউ, কাঠ বাদাম, সূর্যমুখী, ডুমুর ও লেবু গাছে এরা বেশি বাসা বাঁধে। বাসা তৈরির জন্য স্ত্রীকে পুরুষ টুনটুনি সাহায্য করে। আকারে এরা চড়–ই পাখির চেয়েও ছোট। তাদের পিঠের রং কিছুটা খয়েরি, কিন্তু মাথা সাধারণত ধূসর। পেটের তলার পালক সাদাটে। লেজ খুব লম্বা নয়, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় পুরুষ পাখিদের লেজের মাঝের দুটি পালক হঠাৎ লম্বা হয়ে যায়। তাই সে সময় পুরুষ পাখিদের লেজ লম্বা দেখা যায়। টুনটুনিরা একসঙ্গে তিন-চারটা করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো দেখতে সাদা, সাদার উপর লালের ছিটেফোঁটাও আছে। বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত টুঁই টুঁই শব্দ করে এই চঞ্চল পাখিটি ঝোঁপ-জঙ্গলে ক্রমাগত লাফালাফি করে। পাখিগুলো ছোট; কিন্তু তাদের গলার স্বর নিতান্ত ছোট নয়। যখন টুনটুনিরা গাছের ডালে লাফালফি করে ডাকতে থাকে, তখন অনেক দূর থেকে শোনা যায় সেই আওয়াজ। চঞ্চল প্রকৃতির পাখি টুনটুনি। কোথাও বসে থাকার সময় নেই তার। সারাদিন ওড়াওড়ি করতেই থাকে এই টুনটুনি পাখি। এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে এখানে শুধু ফুড়ুত ফুড়ুত করে আসা-যাওয়া করতেই থাকে। আর তাই এই পাখিকে আমরা অস্থির পাখি হিসেবে চিনে থাকি। টুনটুটি সারাক্ষণ লতাগুলোর ফাঁক-ফোকরে লাফিয়ে বেড়ায়। এই ছোট পাখির দেখা মেলে ঝোঁপঝাঁড়ে বা বনে জঙ্গলে। ছোট গাছ কিংবা মাঝারি গাছে বাসা বাঁধে এরা। ছোট এই পাখিটা খুব চালাক প্রকৃতির পাখি। চোখের পলকেই উড়ে যায় এরা। দুর হতে দেখলে মনে হয় যেনো তার লেজটা খসে পড়ছে। চঞ্চল এই পাখিটি আমাদের গ্রাম-বাংলার এক ঐতিহ্য।
সূত্রঃ বরিশাল পিডিয়া

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম:-&ফেসবুক-১:-&ফেসবুক-২
nuru.etv.news@gmail.com

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.