চিরায়ত বাংলার প্রাতঃস্মররনীয় কয়েকজন কিংবদন্তি (১ম পর্ব)

আমাদের স্বাধীনতার পিছনে যেমন হাজার হাজার বলিদান রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে প্রচুর মানুষের অবদান। কেউ কেউ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে সরাসরি আবার কেউ তার লেখার মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘকাল লড়াই করে গেছেন। তারা প্রতেকেই আমাদের অভিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি। তারা আমাদের বাংলার গর্ব। তারা আজ আমাদের মধ্যে জীবিত না থাকলে রয়েছে আমাদের প্রত্যেকের মনের অন্তরে। তার সবাই চিরস্মরণীয়। এরকমই কয়েকজন মহান কিংবদন্তি নিয়ে আমার ১ম পর্ব।

১। রাজা রামমোহন রায়ঃ
রাজা রামমোহন রায় হলেন এমন একজন কিংবদন্তি যাকে বাংলার নবজাগরণের দূত অথবা এক কথায় বলা যায় বাংলার রত্ন। দুই শতাব্দী ধরে বাংলায় রয়েছে তার বহু অবদান। ২২ মে ১৭৭২ সাল, এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলার এই কিংবদন্তি। তার পিতা ছিলেন (রামকান্ত ) একজন ধার্মিক স্বভাবের মানুষ। যিনি তার বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ঈশ্বরের প্রার্থনায়।
রাজা রাম মোহন রায় ভারতীয় রেনেসাঁর জনক হিসাবে জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মহান বিদ্বান পাশাপাশি একজন স্বাধীন চিন্তাবিদ। সামাজিক সংস্কারের বিরুদ্ধে এবং মানবতার প্রতি উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে ভারতীয়দের জন্য এক নতুন জীবনের পথ খুলেছিলেন।
শৈশবে তিনি বাংলা, সংস্কৃত , ফারসি ও আরবি ছাড়া বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি তার শেষ জীবন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। স্বামীর শব দাহের সঙ্গে বিধবা স্ত্রীকে জীবন্ত দাহ করানোর প্রথা নিজের চোখে দেখেছিলেন এবং সেদিন থেকে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে অনেক চেষ্টা করেছেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে সতীদাহ প্রথা বিরুদ্ধে নিজের মতামত প্রকাশ করেন এবং অবশেষে ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর একটি আইন পাস করে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করেন।
বলাই যায় বাংলার কিংবদন্তি রাজা রামমোহন রায় শিক্ষার ব্যবস্থার এক নতুন ধারা জাগিয়ে তুলেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষাই মানুষের মনে কুসংস্কারের ছায়া ঘুচিয়ে দিতে পারে। তাই নিজের তহবিলে কলকাতায় ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
তার সময়কালে সরকার শুধুমাত্র সংস্কৃত স্কুল চালু করতেন তবে তিনি এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করেছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন ভারতীয়দের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান তালে চলতে হলে শুধু সংস্কৃত ভাষা নয় বরং সংস্কৃতের পাশাপাশি ভিন্ন ভাষায় জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য তিনি ডেভিড হেয়ারের সাথে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮২৮ সালে আর্থ-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্রহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রথম ভারতীয় সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতাকে সমর্থন করেছিলেন। ১৯৩১ সালে মুঘল সম্রাট তাকে ‘রাজা’ উপাধি দিয়েছিলেন।

২। রাণী রাসমণিঃ
আমাদের বাংলার ইতিহসে কিছু সাহসী নারী ছিলেন যারা বাংলায় অনেক অবদান রেখে গেছেন। ঠিক সেরকমই একজন নারী ছিলেন রাণী রাসমণি যিনি বাংলায় এক অবিশ্বাস্য চিহ্ন রেখে গেছেন। অসহায় মানুষদের বিপদে দেখে যিনি সর্বদা ঝাঁপিয়ে পড়েন পাশাপাশি গোটা জীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। তিনি যেমন ছিলেন দয়াময়ী তেমনি ছিলেন ঈশ্বরপ্রেমী।
উত্তর চব্বিশ পরগনায় ১৭৯৩ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর হালিশহরে কোণা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রানী রাসমণি। রাসমণি বাবার নাম ছিল হরেকৃষ্ণ দাশ এবং মা প্রিয়া দাশি। সাত বছর বয়সে তার মা মারা যান এবং এগারো বছর বয়সে তার তাকে এক জমিদার বাবু রাজচন্দ্র দাসের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তার স্বামীকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করতেন। তারা দুইজনেই ছিল দয়ালু প্রকৃতির মানুষ। তাই তারা দুইজন মিলে সমাজ সেবা এবং অসহায় মানুষদের সেবা করে গেছেন।
গঙ্গায় মাছ ধরার জন্য জেলেদের কাছ থেকে ইংরেজরা কর নিত। বাংলার কিংবদন্তি রানী রাসমণি এই অন্যায় বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং ইংরেজ সরকার বাধ্য হয়ে কর তুলে নেন। সেই সময় বাংলাদেশের মকিমপুরের মানুষদের প্রতি ইংরেজ সাহেবদের জোর করে নীলচাষ বন্ধ করেন।
কিংবদন্তি রানী রাসমণির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হল কলকাতার দক্ষিণেশ্বরে কালী মন্দির, যা তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মা কালীর ভক্ত। একদিন অন্নপূর্ণা ও বিশ্বনাথের পূজা দেওয়ার জন্য তিনি কাশিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং যাওয়ার ঠিক আগের দিন রাতে মা ভবতারিণী তাকে স্বপ্নে বলেন গঙ্গার তীরে মন্দির প্রতিষ্ঠিত করতে এবং সেখান থেকেই তিনি রাসমণির পূজা গ্রহণ করবেন। তাই ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত করলেন গঙ্গার ধারে দক্ষিণেশ্বরে কালী মন্দির।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, ঝাঁপিয়ে পড়ছেন তাদের বিপদের দিনে। বাংলায় তার প্রচুর অবদান রয়েছে দক্ষিণেশ্বরে মন্দির ছাড়াও তিনি তৈরি করেছেন আহিরীটোলা স্নানঘাট ও নিমতলা স্নানঘাট। এছাড়াও বাবুঘাট বাঁধাতে সহায়তা করেন।

৩। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরঃ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এমন এক ব্যক্তি যিনি তার চারপাশের অনেকের জীবনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি মেধাবী ছিলেন এবং প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। নি নিজের চিন্তাভাবনা, ধারণা এবং জ্ঞান অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য লেখা শুরু করেন। তিনি একজন উজ্জ্বল লেখক হিসাবে প্রমাণিত। তিনি বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছিলেন যা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে।
১৮২০ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পশ্চিমবাংলায় মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা ভগবতী দেবী। তিনি খুব দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। গ্যাস প্রদীপের সামর্থ্য না তিনি রাস্তার ল্যাম্পের নীচে বসে পড়াশুনো করেছেন। তার বয়সী অন্যান্য ছেলেরা দিনের বেশিরভাগ অংশ খেলাধুলায় ব্যয় করলেও তাকে বইয়ে ডুবে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তিনি পড়াশুনো এতোই ভালো ছিল যে ভালো নম্বরের সঙ্গে স্কলারশিপ অর্জন করেছিলেন। তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৪১ সালে সংস্কৃত নিয়ে পাস করেন। আরও জানতে পড়ুন – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
পরিবারকে সাহায্য জন্য কিংবদন্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজে একটি পার্ট টাইম চাকরিতে করতেন। পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন সংস্কার নিয়ে এসেছিলেন এবং ১৮৫৬ সালে কলকাতায় বরিশায় উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
বিদ্যাসাগর ভারতীয় সমাজে নারীদের অবস্থার উন্নতির জন্য কঠোর লড়াই করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মেয়েদের শিক্ষিত করে কাজ করতে দেওয়া উচিত। সমাজে বিশেষত বিধবাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হত এবং তাদের সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হত। বিদ্যাসাগর বিধবাদের অবস্থার উন্নতির জন্য লড়াই করেছেন এবংবিদ্যাসাগর বিধবা পুনরায় বিবাহের অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি আবেদন করেছিলেন। হিন্দু রীতিনীতিের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য তিনি সমাজের তীব্র সমালোচনা পেয়েছিলেন। ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন চালু করেন।

৪। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ঃ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এমন একজন কিংবদন্তি ছিলেন যিনি দেশের মহান লেখকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একজন কবি আবার একজন লেখক এবং সাংবাদিক। ভারতের জাতীয় সংগীত বন্দে মাতরম তার লেখা বহু বছর আগে। আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে এই কিংব্দন্তির স্থান রয়েছে। ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ শে জুন নৈহাটি শহরের কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেদিনীপুরের একজন ডেপুটি কালেক্টর এবং মা দুর্গাসুন্দরী দেবী। ছোট থেকেই পড়াশুনোয় আগ্রহী ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দু’জন স্নাতকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল, তার মধ্যে তিনি একজন ছিলেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরকারী চাকরি করতেন বলে সরাসরি কোনও গণআন্দোলনে অংশ নিতে পারেনি। এর জন্য তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ নিয়েছিলেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলি হল দুর্গেশনন্দিনী, কাপালকুণ্ডলা, মৃণালিনীচন্দ্র, চন্দ্রশেখর, আনন্দমঠ ইত্যাদি। তার রচিত লোকসাহিত্য হল লোক রহস্য,বিবিধ প্রবন্ধ, সীতারাম, কৃষ্ণ চরিত্র,দেবী চৌধুরানী, কমলাকান্ত, মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত ইত্যাদি।

৫। জগদীশ চন্দ্র বসুঃ
একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী হলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনি উদ্ভিদবিদ, পদার্থবিদ এবং জীববিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন উদ্ভিদের প্রাণ রয়েছে এবং উত্তেজনায় সাড়া দেয়। ৩০ শে নভেম্বর ১৮৫৮ সাল ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি অঞ্চলের ময়মনসিংহে বাংলার কিংবদন্তি জগদীশ চন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন ভগবান চন্দ্র বসু এবং মা ছিলেন সুন্দরী দেবী। জগদীশ চন্দ্র বসু তার প্রাথমিক শিক্ষার সূত্রপাত করেছিলেন বাংলার গ্রামের স্কুলে মাধ্যমে । সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
জগদীশ চন্দ্র বসু বাংলার এমন এক কিংবদন্তি যিনি অবিশ্বাস্য জিনিস আবিষ্কার করে গেছেন। তিনি একজন পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের। কর্মরত অবস্থায় তাকে বেতন দেওয়া হত ব্রিটিশ অধ্যাপকদের থেকে কম। তাই তিনি তার প্রতিবাদে তিন বছর তিনি বিনা বেতনে শিক্ষা দান করেছেন এবং দীর্ঘকাল প্রতীবাদের পর তাকে ব্রিটিশ অধ্যাপকদের সমতুল্য বেতন দেওয়া হত। এইরকমই ছিল তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
পরীক্ষানিরীক্ষা সময়কালীন তাকে অনেক বাঁধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। শত বাধা থাকলেও তিনি বিজ্ঞান সাধনার প্রতি হার মানে নি। অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন এবং ৫মিমি থেকে স্বল্পতম রেডিও-তরঙ্গ তরঙ্গ আবিষ্কার করেন। উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য ক্রিস্কোগ্রাফ যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কার করেন। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত তার সবচেয়ে বড় নিদর্শন হল বসু বিজ্ঞান মন্দির।

৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের বাংলার একজন কিংবদন্তি তা আর বলার বাকি রাখে না। তিনি আমাদের বাংলার গর্ব। একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি ও দার্শনিক যিনি নোবেল পুরস্কার জয়লাভ করেছেন। যিনি তার লেখার মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলার সাহিত্য এবং সংগীতের এক নতুন ধারা আবিষ্কার করেছেন। যার জন্য তাকে বিশ্বকবি বলে অভিহিত করা হয়।
৭ মে ১৮৬১ সাল, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদা সুন্দরী দেবী। তিনি শৈশবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা অর্জন করতে চাননি বরং গৃহে শিক্ষক রেখে পড়াশুনো করেছেন। তিনি ছোট থেকে বাড়ির ভৃত্যদের কাছে লালন পালন হয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ‘জন গণ মন’ এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ দুই দেশের জাতীয় সংগীত। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রচনা রচিত করেছেন। গীতাঞ্জলী কাব্য রচনার জন্য ১৯১৩ সালে ১৪ ই নভেম্বর নোবেল পুরস্কার পান। ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধি দিয়েছিলেন। তবে স্বাধীনতার জন্য জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।
বিশ্বকবি শেক্সপিয়ার এবং কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের রচনা অধ্যায়ন করে। বিভিন্ন কবিতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ের জন্য লিখেছেন ছোট গল্প, উপন্যাস, নিবন্ধ, উপন্যাস, নাটক এবং প্রচুর গান। ১৮৭৭ সালে তার সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী এবং ১৭৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিকাহিনী।
তার মানসী কাব্যগ্রন্থ কয়েকটি কবিতার মাধ্যমে রাজনৈতিক এবং সামাজিক চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি প্রায় ২২৩০ টি গান রচনা করেছিলেন এবং তার এই গানগুলিকে রবীন্দ্র সংগীত বলা হয়। এছাড়াও তিনি জীবনীমূলক এবং ভ্রমণকাহিনী লেখায় দক্ষ ছিলেন।

৭। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ঃ
কিংবদন্তি আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন একজন দার্শনিক, রসায়নবিদ, কবি এবং বিজ্ঞানী। তিনি আবিষ্কারের পাশাপাশি তার জীবনে দরিদ্র এবং অসহায় মানুষদের সেবা করে গেছেন। এই কিংবদন্তির অবদান বাংলায় কম কিছু নয়। শৈশব থেকেই তার প্রতিটি বিষয়ের উপর প্রবল আগ্রহ ছিল। তার মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার বিশ্বে প্রচুর খ্যাতি পেয়েছিল।
বাংলাদেশের খুলনায় ২ রা আগস্ট ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তার বাবা হরিশচন্দ্র রায় সেখানকার একজন মস্ত বড় জমিদার ছিলেন। এবং তার মা ছিলেন ভুবনমোহিনী দেবী। তিনি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন এবং পদার্থবিজ্ঞান পাঠ করেন। পিএইচ ডি ও ডি এসসি ডিগ্রী লাভ করেন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কপার ম্যাগনেসিয়াম শ্রেণীর সম্মিলিত সংযুক্তি পর্যবেক্ষণ করেন এবং এর জন্য হোপ প্রাইজ দেওয়া হয়।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়কে ঔষধের জনক বলা হয়। তিনি প্রথমে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা তৈরি করেন এবং পরে সেটি কলকাতার মানিকতলায় স্থানান্তর করেন। যা নাম এখন ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড’। তিনি অধ্যাপনা এবং গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞানের উপর প্রাচীন গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছিলেন। এবং ‘A History of Hindu Chemistry from the Earliest Times to the Middle of Sixteenth Century’ নামে বইটি প্রকাশিত করেন। তিনি একজন সমাজসেবকও ছিলেন।
তার একাধিক লেখা প্রকাশিত হত “ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি” জার্নালে। প্রেসিডেন্সি এবং রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে রসায়ন নিয়ে অধ্যাপনা করেন এবং প্ল্যাটিনাম, ইরিডিয়াম এবং সালফাইডের মতো যৌগগুলি নিয়ে গবেষণা করেন।

৮। স্বামী বিবেকানন্দঃ
নরেন্দ্রনাথ দত্ত স্বামী বিবেকানন্দ নামে খ্যাত। তিনি শুধুমাত্র ভারতে নয়, সারা বিশ্বে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পাশাপাশি আধ্যাত্মিকতা প্রচার করেছিলেন। তিনি একটি কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈশব থেকেই ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মীয় গ্রন্থ শেখার প্রতি আগ্রহী ছিলেন।
কিংবদন্তি স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন স্ব-শৃঙ্খলা ও নীতিমালার মানুষ। জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে তার দৃঢ় মতামত ছিল এবং তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের মধেই ঈশ্বর বিরাজমান। ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার বিষয়গুলি ছড়িয়ে দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন।
নিজের দেশকে তিনি সকলের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি নিজেকে মানুষ সেবার নিয়োগ করেন। কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মঠ। তিনি ভারতবাসীর দুঃখ উপলব্ধি করেছিলেন। বেলুড়ে তৈরি করেন বেলুড় মঠ যা আজও বিখ্যাত। আমেরিকার শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। মানুষের সেবা করাই তার মূল আদর্শ।

৯। অগ্নিযুগের বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীঃ
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী সূর্য সেনের সহকর্মী বিনোদ বিহারী চৌধুরী। বিপ্লবীদের দলে নাম লেখানোর অল্প দিনের মধ্যেই বিনোদবিহারী চৌধুরী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রিয়ভাজন হয়েউঠেছিলেন। ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার লুন্ঠনে বিনোদবিহারী চৌধুরী তাই হতে পেরেছিলেন সূর্যসেনের অন্যতম তরুণ সহযোগী । বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী একটি ইতিহাস, একজন কিংবদন্তি, মহীরুহ। কালোত্তীর্ণ তার জীবন। ছোটখাটো মানুষটির দীর্ঘ সক্রিয় জীবনের মূলে তার ঋজু চরিত্র। স্পষ্টভাষী তিনি, নিজের অবস্থানে বরাবর অবিচল। বজ্র কঠিন চিত্তে লক্ষ্যে অটুট। বিনোদ বিহারী চৌধুরী নামটি কল্পনামাত্র একজন অপরাজেয় মানুষের চিত্রকলা ভেসে ওঠে আমাদের সামনে। স্বাধিকার ও মানবমুক্তির সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে যিনি ছিলেন বরাভয়। শোষণমুক্ত সমাজের জন্য আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষা, স্বপ্ন ও আকাঙ্খা তাঁর হাত ধরেই যেন বাস্তবতার ভিত্তি পায়। নতুন করে আশাবাদী করে তোলে মানুষকে।
বিনোদ বিহারী চৌধূরী ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানায় জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবাকামিনী কুমার চৌধুরী ছিলেন পেশায় উকিল এবং মা রামা চৌধুরী ছিলেন গৃহিনী। তাঁর স্ত্রীর নাম বিভা চৌধুরী।ছেলের নাম বিবেকান্দ্র চৌধুরী। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার রাঙ্গামাটিয়া বোর্ড স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাশুরু হয়েছিল৷ সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ির প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ফটিকছড়ি করোনেশনআদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালির পি.সি. সেন সারোয়ারতলি উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯২৯ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাঁকে বৃত্তি প্রদানকরা হয়৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৩৪ এবং ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশরাজের রাজপুতনার ডিউলি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় থাকার সময় তিনি প্রথম শ্রেণীতে আই.এ. এবংবি.এ. পাস করেন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামকে তিন দিনের জন্য স্বাধীন করেছিলেন তারা। টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা, অক্সিলারি ফোর্সের সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র লুট করেছেন। দামপাড়া পুলিশ লাইনে অস্ত্রের গুদাম ছিল, সেটাও তিনি ও দলের সদস্যরা মিলে লুঠ করেন। এ দলে ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন সহ ছিলেন হিমাংশু সেন , অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষ ও আনন্দ গুপ্ত। ‘৩০সালের এ ঘটনার পর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জঙ্গি রূপ ধারণ করে। সে দিনের এসব বিপ্লবীর দুঃসাহসিক কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়নি। চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল চার দিন। এই কয়েক দিনে ব্রিটিশ সৈন্যরা শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত বিনোদবিহারীরাও বীর বিক্রমে পরে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। জালালাবাদ যুদ্ধ ছিল বিনোদবিহারী চৌধুরীর প্রথম সম্মুখযুদ্ধ। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েও লড়াই থামাননি তাঁর। চোখের সামনে দেখেছিলেন ১২ জন সহকর্মীর মৃত্যু।
কর্মজীবনে বিনোদ বিহারী চৌধূরী ১৯৩০ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৩৯ সালে দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম কোর্টের একজন আইনজীবি হিসাবে অনুশীলন শুরুকরেন। কিন্ত অবশেষে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯৪০–১৯৪৬সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকার পাশাপাশি ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলাকমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তান কংগ্রেসের সদস্য হন তিনি ৷১৯৫৮ সালে আউয়ূব খান সামরিক আইন জারী করে রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করলে বিনোদ বিহারী চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৯ সালে আউয়ূব বিরোধী গণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে ভারতের মিজোরাম দিয়ে কলকাতায় উপস্থিত হন এবং শরনার্থী কল্যাণ সমিতি গঠন করে সভাপতি হিসেবে তরুণ-যুবকদের সংগঠিত করতে থাকেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং সেন্টার পরিচালনা করেন এবং শরনার্থী শিবিরগুলোতে বহু প্রাইমারী স্কুল গড়ে তোলেন। জীবন সায়াহ্নে উপনিত হয়েও প্রচলিত রাজনীতির ধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে জনকল্যাণমূক সেবাধর্মী রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যে শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত-অবহেলিত, অপমানিত জনগনের আকুল আর্তি সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারীর নির্বাচনে (অনুষ্ঠিত হয়নি) চট্টগ্রাম-৯ নির্বাচনী আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তার সুযোগ্য জীবনসঙ্গী- সকল মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণাদানকারী চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় অর্পণাচরণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা মহীয়সী নারীর প্রতিকৃতি বিভা চৌধুরী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর শততম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে তাঁকে ছেড়ে অনন্তের পানে যাত্রা করেছেন যা তার জীবনের অন্যতম বড় অপূর্ণতা। এইদেশপ্রেমিক সদানিবেদিতপ্রাণ দম্পতির দুই সন্তান- অকাল প্রয়াত স্বর্গীয় সুবীর চৌধুরী এবং স্বর্গীয় বিবেকানন্দ চৌধুরী ভারতপ্রবাসী ছিলেন। খেয়লী বিধাতার ইশারায় বিপ্লবী এই যোদ্ধা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই হারিয়ে ফেলেছিলেন ২ পুত্রকেই। ১০০ বছরের পথপরিক্রমা অতিক্রম করে ১০১ ও ১০২ পেরিয়ে ১০৩তম জন্মমাধদিন পালনের পর থেমে গেছে তাঁর জীবন। বয়স তাঁকে ভারাক্রান্ত করতে না পারলেও প্রকৃতির চিরায়ত সত্য তাঁকে থামতে বাধ্য করেছে। ১০ এপ্রিল ২০১৩ ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্য জনিত জটিলতায় তিনি এই নশ্বর দেহ ত্যাগ করেন। সুদীর্ঘ জীবনে সমাজ ও রাষ্ট্রের যেকোনো দুর্দিনে তিনি ছিলেন সোচ্চার। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, মানবমুক্তির তিনি ছিলেন এক অনমনীয় অপ্রতিরোধ্য পতাকা। শতবর্ষাধিক বয়সের একটি বটবৃক্ষ ডালপালা পত্র ও পল্লবে আজ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তার ছায়ার বিস্তার- যার ছায়াতলে আমরা নিশ্চিন্তে- নিরাপদে আজও জীবন যাপন করছি অবিরাম। তাঁর একটি বাক্য আমাদের কানে প্রতিফলিত হয় বার বার, “সত্য বড় কঠিন, সেই কঠিনেরে ভালবাসিও”। সত্য ও সুন্দরের এই অভিযাত্রীকে আজ ১০৪ তম জন্ম জয়ন্তীতে সবার অন্তরের উষ্ণ অভিনন্দন, সবার হৃদয়-নিংড়ানো বিনম্র অভিবাদন। মৃত্যুঞ্জয়ী এই বিপ্লবীর আদর্শ প্রতিফলিত হোক আমাদের সকলের মাঝে। ত্রিকালদর্শী এই চিরবিপ্লবী মানুষটির আজ ৭ম তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তিনি বার্ধক্য জনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মৃত্যুবরণ করেন।

১০। বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্যসেনঃ
ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সূর্যকুমার যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত। বিপ্লবী ভাবধারায় দীক্ষিত সূর্য সেন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকে একমাত্র তপস্যা হিসেবে নিয়েছিলেন। ১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে সূর্য সেন সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন। বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি এই কলেজে তিনি অধ্যাপক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর সান্নিধ্যে আসেন। সতীশচন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। সূর্য সেনকে তিনি বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দেন। সূর্য সেন ১৯১৮ সালে শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রামে এসে গোপনে বিপ্লবী দলে যোগ দেন। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
সূর্য সেন ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় অর্থনৈতিক ভাবে অস্বচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন। সূর্য সেন ছিলেন তাঁদের পরিবারের চতুর্থ সন্তান। শৈশবে পিতা মাতাকে হারানো সূর্য সেন কাকা গৌরমনি সেনের কাছে মানুষ হয়েছেন। সূর্য সেন ছেলেবেলা থেকেই খুব মনোযোগী ভাল ছাত্র ছিলেন এবং ধর্মভাবাপন্ন গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। তাঁর প্রথম স্কুল ছিল দয়াময়ী উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে তিনি নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল হাই স্কুলে ভর্তি হন। সূর্য সেন ১৯১২ সালে চট্টগ্রামের নন্দনকাননে অবস্থিত হরিশদত্তের ন্যাশনাল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে চট্টগ্রাম কলেজে এফ. এ.-তে ভর্তি হন। সে সময় আই.এ বা বর্তমানের এইচএসসি পরীক্ষার পরিবর্তে ফার্স্ট আর্টস বা এফ. এ. পরীক্ষার নিয়ম ছিল। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এফ. এ. পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে পাশ করে তিনি একই কলেজে বিএ-তে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় বর্ষের কোন এক সাময়িক পরীক্ষায় ভুলক্রমে টেবিলে পাঠ্যবই রাখার কারণে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিতাড়িত হন। ফলে, তাঁকে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বিএ পড়তে যেতে হয়। ১৯১৮ সালে তিনি বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন এবং চট্টগ্রামে ফিরে এসে ব্রাহ্ম সমাজের প্রধান আচার্য্য হরিশ দত্তের জাতীয় স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি দেওয়ানবাজারে বিশিষ্ট উকিল অন্নদা চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত অধুনালুপ্ত ‘উমাতারা উচচ ইংরেজি বিদ্যালয়ে’ অংকের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতা করার কারণে তিনি ‘মাস্টারদা’ হিসেবে পরিচিত হন। এসময় বিপ্লবী দলের সাথে তাঁর সম্পর্ক গভীরতর হয়ে ওঠে।
আত্মীয়দের বিশেষ অনুরোধে ১৯১৯ সালে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়ার নগেন্দ্রনাথ দত্তের ষোল বছরের কন্যা পুষ্প দত্তকে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবন তাকে কর্তব্যভ্রষ্ট করবে, আদর্শচ্যুত করবে ভেবে বিবাহের তৃতীয় দিনে দেওয়ানবাজারের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরে চলে আসেন এবং তারপর স্ত্রীর সাথে আর কোনদিন দেখা করেন নি। ১৯২০ সালে গান্ধীজী- কর্তৃক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে অনেক বিপ্লবী এই আন্দোলনে যোগ দেন। গান্ধীজীর অনুরোধে বিপ্লবীরা তাদের কর্মসূচি এক বছরের জন্য বন্ধ রাখেন। সূর্য সেন অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিলেন। মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠে। তখন চট্টগ্রাম কোর্টের ট্রেজারী থেকে পাহাড়তলীতে অবস্থিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়ে যাওয়া হতো। ১৯২৩-এর ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাস এর মোড়ে সূর্য সেনের গুপ্ত সমিতির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে বেতন বাবদ নিয়ে যাওয়া ১৭,০০০ টাকার বস্তা ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর গোপন বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় পুলিশ খবর পেয়ে বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দিলে পুলিশের সাথে বিপ্লবীদের খন্ড যুদ্ধ হয় যা “নাগরখানা পাহাড় খন্ডযুদ্ধ” নামে পরিচিত। যুদ্ধের পর গ্রেফতার হন সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী। রেলওয়ে ডাকাতি মামলা শুরু হয় সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তীকে নিয়ে। সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী এ মামলা থেকে ছাড়া পেয়ে যান। তবে গ্রেফতার করার পর বিপ্লবীদের উপর নির্যাতনের কারনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার টেগার্টকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে বিপ্লবীরা। এই পরিকল্পনার কথা পুলিশ আগে থেকেই জানতে পারে। এ কারনে ২৫ অক্টোবর ১৯২৪ সালে গ্রেফতার হন গণেশ ঘোষ, নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিং সহ আরো কয়েকজন। পুলিশকে বার বার ফাঁকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯২৬ সালের ৮ অক্টোবর সূর্য সেন কলকাতার ওয়েলিংটন স্ট্রীটের এক মেসে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। বন্দী হবার পর তাঁকে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বোম্বাইয়ের (মুম্বাই) রত্নগিরি জেলে পাঠানো হয়। মাস্টারদা যখন রত্নগিরি জেলে আটক, তখন তাঁর স্ত্রীর কঠিন টাইফয়েড রোগ হয়। দেওয়ানবাজারের যে বাসা থেকে মাস্টারদা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী সেখানে তখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। বহু দরখাস্তের পর মাস্টারদাকে যখন পুলিশ পাহারায় রত্নগিরি জেল থেকে ছুটিতে চট্টগ্রাম আনা হয় মূমুর্ষু স্ত্রীকে দেখার জন্য, তাঁর স্ত্রীর আয়ু তখন সম্পূর্ণ নিঃশেষিত। স্বামীর কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা পুষ্প দত্ত এ জীবনে আর এ বিপ্লবী নেতার দেহ-মনের সান্নিধ্যে যেতে পারেন নি। সূর্যসেনকে পরে রত্নগিরি জেল থেকে বেলগাঁও জেলে পাঠানো হয়। ১৯২৭ সালে নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিং মুক্তি পান। আর ১৯২৮ সালের শেষভাগে সূর্য সেন ও গণেশ ঘোষ জেল থেকে ছাড়া পান।
১৯২৮ সালে কলকাতার পার্ক সার্কাসে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির বার্ষিক অধিবেশন হয়। ঐ অধিবেশনে চট্টগ্রাম থেকে যে প্রতিনিধিরা ছিলেন তাঁরা হলেন সূর্য সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিং, নির্মল সেন, লোকনাথ বল, তারকেশ্বর দস্তিদার প্রমুখ। ১৯২৯ সালে মহিমচন্দ্র দাস এবং বিপ্লবী সূর্য সেন যথাক্রমে চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৩০ সালের শুরু থেকেই আসকার খাঁর দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত কংগ্রেস অফিসে সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী ভবিষ্যৎ এর সশস্ত্র বিপ্লবের রুপরেখা নিয়ে বিভিন্ন নেতা কর্মীদের সাথে আলোচনা করেন। তােদের দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ”। বাংলায় “ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা”। দলের পরিকল্পনা অনুসারে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল বিদ্রোহ এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন দিন হিসাবে ঠিক হয়। বিপ্লবী দল রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে নেয়, হাতুড়ি দিয়ে তারা সব যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে দেয় এবং পেট্রোল ঢেলে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আরেকটি দল পাহাড়তলীতে অবস্থিত চট্টগ্রাম রেলওয়ে অস্ত্রাগার দখল করে নেয়। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী বিপ্লবীরা দামপাড়ায় পুলিশ রিজার্ভ ব্যারাক দখল করে নেয়। এই আক্রমনে অংশ নেয়া বিপ্পবীরা দামপাড়া পুলিশ লাইনে সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে সূর্য সেনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সূর্য সেন অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষনা দেন। তিনি তার ঘোষণায় বলেনঃ
“The great task of revolution in India has fallen on the Indian Republican Army. We in Chittagong have the honour to achieve this patriotic task of revolution for fulfilling the aspiration and urge of our nation. It is a matter of great glory that today our forces have seized the strongholds of Government in Chittagong…The oppressive foreign Government has closed to exist. The National Flag is flying high. It is our duty to defend it with our life and blood”.
চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল মাত্র চারদিন। সূর্য সেন সহ ছয়জন শীর্ষস্থানীয় বিপ্লবীকে ধরার জন্য ইংরেজ সরকার ৫০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করে। ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল বিপ্লবীরা যখন জালালাবাদ পাহাড়ে (চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পাহাড়) অবস্থান করছিল সে সময় সশস্ত্র ইংরেজ সৈন্যরা তাঁদের আক্রমণ করে। দুই ঘন্টার প্রচন্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর ৭০ থেকে ১০০ জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২ জন নিহত হয়। ইংরেজ প্রশাসন সূর্য সেনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত রাখে। সূর্য সেন গৈরলা গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাসের বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন। ১৯৩৩ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী রাতে সেখানে এক বৈঠকে ছিলেন কল্পনা দত্ত, শান্তি চক্রবর্তী, মণি দত্ত, ব্রজেন সেন আর সুশীল দাসগুপ্ত। ব্রজেন সেনের সহোদর নেত্র সেন সূর্য সেনের উপস্থিতির খবর পুলিশকে জানিয়ে দিলে রাত ২টার দিকে অস্ত্রসহ সূর্য সেন এবং ব্রজেন সেন ধরা পড়েন। তারপর ঐ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সূর্য সেনের নিজের হাতে লেখা অর্ধসমাপ্ত আত্মজীবনীর খাতা উদ্ধার করে। সেই খাতার উপর লেখা ছিল “বিজয়া”। বিচারের সময় “বিজয়াতে” লেখা তাঁর কথাগুলো বিপ্লব এবং প্রশাশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রমান হিসাবে অনেকবার ব্যবহার করা হয়। ১৭ই ফেব্রুয়ারী রাতে সূর্য সেন এবং ব্রজেন সেনকে প্রথমে জেলা গোয়েন্দা সদর দপ্তরে, পরে কোর্ট হয়ে চট্টগ্রাম জেলে নেয়া হয়। সূর্য সেন গ্রেফতার হবার পর তারকেশ্বর দস্তিদার দলের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। কিন্তু ১৯৩০ সালের ১৮ই মে আনোয়ারা থানার গহিরা গ্রামে পুলিশ আর মিলিটারীর সাথে সংঘর্ষের পর তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্ত গ্রেপ্তার হন। সূর্য সেন, তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্তকে বিচারের জন্য ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২১/১২১এ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৯৩৩ সালের ১৪ আগষ্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে ১২১ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করিয়া প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেন। ওই একই ধারায় তারকেশ্বর দস্তিদারের প্রতিও প্রাণদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। কুমারী কল্পনা দত্তকে ভারতীয় দন্ডবিধির ১২১ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ প্রদান করে। মামলার রায় প্রদানের পর তিনজন বিপ্লবীর পক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে আপিলের আবেদন করা হয়। ১৯৩৩ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের দেয়া দন্ড বহাল রাখে। কনডেম্‌ড সেলে সূর্য সেনকে কড়া পাহারায় নির্জন কুঠুরীতে রাখা হত। মৃত্যুর আগে জেলে আটক বিপ্লবী কালীকিঙ্কর দে’র কাছে সূর্য সেন পেন্সিলে লেখা একটি বার্তা পাঠান। একজন কয়েদি মেথর সূর্য সেনের লেখা চিঠি ময়লার টুকরিতে নিয়ে জেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বন্দী বিপ্লবীদের দিয়ে আসতো। সে বার্তায় তিনি লেখেন “আমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা”। তাঁর ভাষায় “ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো”। তিনি সংগঠনে বিভেদ না আসার জন্য একান্তভাবে আবেদন করেন।
১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারী মধ্যরাতে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসী কার্যকর হবার কথা উল্লেখ করা হয়। সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম ভাবে অত্যাচার করে। মৃত্যুর পূর্বে ব্রিটিশরা হাতুরী দিয়ে তাঁদের দাঁত এবং তাঁর হাড় ও ভেঙ্গে দেয়। এরপর তাদেরকে ফাঁসী দেয়া হয়। সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পোড়ানো হয়নি। ফাঁসীর পর লাশদুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে ব্রিটিশ ক্রুজার “The Renown” এ তুলে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের সংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেয়া হয়।
সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম:-&ফেসবুক-১:-&ফেসবুক-২
nuru.etv.news@gmail.com

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.