আজ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসঃ মাদক বিষয়ে হই সচেতন, বাচাই প্রজন্ম, বাচাই জীবন

আজ(২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উদ্যোগে বাংলাদেশেও ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ পালিত হচ্ছে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ২৬ জুনকে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের মাদকবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘মাদক বিষয়ে হই সচেতন, বাচাই প্রজন্ম, বাচাই জীবন।’ করোনার কারণে দেশব্যাপী অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচার কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা অপরিহার্য। মাদকের অপব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দেশকে মাদকমুক্ত রাখার অঙ্গীকারের বার্তা প্রতিটি জনপদে পৌঁছে দিতে হবে। র‌্যাবের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের ৩ মে থেকে চলতি বছরের ২০ জুন পর্যন্ত শুধু র‌্যাব সারাদেশ থেকে এক হাজার তিন কোটি ৭৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। এই দুই বছরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৫১৭ জন মাদক কারবারিকে। হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে ৮৪ কেজি। এক কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৬৭৩ পিস ইয়াবা বড়ি, দুই লাখ ৭৪ হাজার ৩০৩ বোতল ফেনসিডিল, আট হাজার ৫৫৪ কেজি গাঁজা, প্রায় দুই কেজি কোকেন, ছয় লাখ ৪৭ হাজার ২১৪টি নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মাদক মামলা হয়েছে সাত হাজার ৬২৫টি। এপ্রিল মাসে এই মামলা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৪০টিতে। মে মাসে মামলার সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৪৬৫টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতি মাসে ঢাকায় মাদক উদ্ধারজনিত ২৫০-৩০০ মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। করোনাকালে মামলার সংখ্যা গড়ে মাসে একশ’তে নেমে এসেছে।

[মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। ধনী-দরিদ্র, দেশ-কাল-পাত্র নির্বিশেষে কেউ মাদকের করাল গ্রাস থেকে নিরাপদ নয়। মাদক দেশের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নের একটি বড় অন্তরায়। মাদকের কারণে এদেশে প্রতিনিয়ত বহু পরিবার ধ্বংস হচ্ছে; অকালে ঝরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ। সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা। মাদকের ভয়ঙ্কর আগ্রাসন থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী ব্যাপক গণসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন এই আন্দোলনেরই একটি অংশ। মাদকের অপব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দেশকে মাদকমুক্ত রাখার অঙ্গীকারের বার্তা প্রতিটি জনপদে পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশে মাদকাসক্তির প্রধান শিকার আমাদের যুবসমাজ যা রাষ্ট্রের জন্য বিশাল হুমকিস্বরূপ। কারণ যুবসমাজ জাতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের প্রধান কারিগর। যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পরিবারসহ দেশের সকল মানুষকে এই আন্দোলনে শামিল হতে হবে। আজ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে আমাদের বিশ্বাস ‘ মাদক বিষয়ে সচেতন হলে বাচাবে প্রজন্ম, বাচবে জীবন।’

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
nuru.etv.news@gmail.com

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.