কালজয়ী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদক বাহাদুর হোসেন খানের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

Bahadur 001
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদকওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আয়েত আলী খাঁ এবং চাচা আলাউদ্দিন খাঁ। তিতাস একটি নদীর নাম খ্যাত এই সুর ও ও সঙ্গীত পরিচালক ত্রিসন্ধ্যায়, যেখানে দাঁড়িয়েছে, শ্বেত ময়ূর, যুক্তি তক্কো আর গপ্পো সিনেমাতেও অতুলনীয় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।১৯৮৯ সালের আজকের দি্নে তিনি ভারতের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিক। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদক বাহাদুর হোসেন খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

বাহাদুর হোসেন ১৯৩১ সালের ১৯ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের এক প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী এবং মাতা উমর উন-নেসা। তাঁর চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ উপমহাদেশের অন্যতম একজন সঙ্গীতজ্ঞ। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বাহাদুর পঞ্চম। তার বড় তিন বোন আম্বিয়া, কোহিনূর, ও রাজিয়া এবং বড় ভাই প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আবেদ হোসেন খান ও ছোট ভাই সঙ্গীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান।

কর্মজীবনে বাহাদুর হোসেন খান ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর ১৯৫১ সালে বম্বে চলে যান। সেখানে তিনি নৃত্যশিল্পী শান্তি বর্মণের ‘লিটল ব্যালে ট্রুপ’-এর সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাহাদুর হোসেন কয়েক বছর কলকাতা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আলী আকবর কলেজ অব মিউজিকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে চীন, রাশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে পরিচিত করে তোলেন। তিনি কলকাতা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘আলী আকবর কলেজ অব মিউজিক’-এ কয়েক বছর অধ্যাপনা করেন।

ওস্তাদ বাহাদুর হেসেন খানের কয়েকটি লংপ্লেসহ অন্যান্য রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ১৯৬০ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্রে জ্যোতিরিন্দ্র মিত্রের সহকারী সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুবর্ণ রেখা দিয়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নতুন পাতা চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি বিশেষ সম্মান লাভ করেন। এছাড়া সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হলঃত্রিসন্ধ্যায়, যেখানে দাঁড়িয়ে, শ্বেত ময়ূর, তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), গার্ম হাওয়া (১৯৭৪), যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৪), অমাবস কি চান্দ (১৯৭৯)। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ও যামিনী রায়ের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রের আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৩১ সালের ১৯ জানুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্ম নেয়া সুরের এই নিরলস সাধক স্মৃতির দেয়ালের ছবি হয়ে যান ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর। তবু উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের জোসনালোকে অনন্তকাল ধরে সৌরভ ছড়াবেন এই কিংবদন্তি। আজ তার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিক। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদক বাহাদুর হোসেন খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
nuru.etv.news@gmail.com

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.