সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ক্ষণজন্মা দুই নক্ষত্র তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

Tarek 01
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দুই কীর্তিমান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীর। এই দুই মহান মানুষের চলে যাওয়ার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। চার বছর আগে ২০১১ সালে এই দিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের দুই কৃতী সন্তান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও চলচ্চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরসহ আরও তিন চলচ্চিত্রকর্মী প্রাণ হারান। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ তার নতুন ছবি ‘কাগজের ফুল’- এর শুটিং লোকেশন নির্বাচনের জন্য এই দিনে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের শালজানা গ্রামে ইছামতী নদীর পাড়ে আসেন। এসময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে এটিএন নিউজের সিইও মিশুক মুনীর, তারেকের স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ, শিল্পী ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগমসহ নয়জন। লোকেশন ঠিক করে তারা ঢাকায় ফেরার পথে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মৃত্যুকালে মিশুক মুনীরে বয়স হয়েছিলো ৫২ বছর এবং তারেক মাসুদ ৫৫ বছর। দেখতে দেখতে সেই অকাল মৃত্যুর চার বছর পূর্ণ হলো আজ। আজ তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে শিল্প-সংস্কৃতি জগতের এই দুই কীর্তিমান পুরুষকে। 
তারেক মাসুদ তার বাল্যকালের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছিলেন মাদ্রাসায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার মাদ্রাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধের পর তিনি সাধারণ শিক্ষার জগতে প্রবেশ করেন এবং একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন এবং দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক অসংখ্য কর্মশালা এবং কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের নির্মিত ছবির তালিকায় আছে আদম সুরত’, ‘মুক্তির গান’, ‘মুক্তির কথা’, ‘মাটির ময়না। মাটির ময়নার জন্য তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান। এগুলোর মধ্যে ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ও পরিচালনার জন্য তিনি পুরস্কার পান। তার পরবর্তী স্বপ্ন ছিল ‘কাগজের ফুল’ । কিন্তু সে স্বপ্ন তার অপুরণই রেয়ে গেছে তার অকাল মৃত্যুতে। আর মিশুক মুনীর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর ২০০০ সালে একুশে টেলিভিশনের প্রথম যাত্রায় সাইমন ড্রিংয়ের সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন। তিনি একুশে টেলিভিশনের ‘হেড অব নিউজ’ অপারেশনের দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ বিভাগ নির্মাণ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল এটিএন নিউজে। 

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রো বাসটির ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করা হয়েছে। অকালপ্রয়াত এই দুই কীর্তিমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলসংলগ্ন সড়কে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের স্মৃতি ভাস্কর্য “‘সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিস্থাপনা’ উন্মোচন করা হয়। এই ‘স্মৃতিস্থাপনার’ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়েছে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর এর দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটির বিভিন্ন অংশ দিয়ে। এই ভাস্কর্যের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও স্থাপনের কাজটি করেছেন এই দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের শিক্ষক শিল্পী ঢালী আল মামুন। স্মৃতি স্থাপনাটির নকশা প্রণয়ন করেছেন স্থপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় এটির বাস্তবায়ন করেছে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। 

Tarek 02

আজ তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। বরেণ্য চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী

এডিট করুন

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.